অর্থের অভাবে মসজিদের খাদেমের মরদেহ পড়ে ছিল হাসপাতালের বারান্দায়।

 


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নের বায়তুল আমান জামে মসজিদের খাদেম মো. আলী আকবর মোয়াজ্জেম (৬৫) দীর্ঘ নয় মাস ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মসজিদের খাদেম মো. আলী আকবর মোয়াজ্জেম। তবে ধারদেনায় চিকিৎসার খরচ, হাসপাতালের বিল এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া মেটানোর সামর্থ্য না থাকায় মরদেহ বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অর্থাভাবে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিল তার মরদেহ।

অসহায় হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মরহুমের ছেলে হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বাবার চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। এখন হাসপাতালের বিল ও অ্যাম্বুলেন্স খরচসহ মোট ১৯ হাজার ৫০০ টাকার অভাবে বাবার মরদেহ বাড়ি আনতে পারছি না।”

বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মুফতি জাকারিয়া রহমান বলেন, “মরহুম আলী আকবর মোয়াজ্জেম ছিলেন মসজিদের নিবেদিতপ্রাণ খাদেম। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে। সামান্য টাকার অভাবে তার মরদেহ হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা সত্যিই মর্মান্তিক।”

খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নোয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও সাংবাদিক হামিদ রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। অল্প সময়ের মধ্যেই তার পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।


পরে ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. জহিরুল ইসলাম মরহুমের সব খরচ বহনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি, মানবিক ব্যক্তি মোহাম্মদ আনসারী সমপরিমাণ অর্থ মরহুমের ছেলের বিকাশে পাঠান। দেশ-বিদেশ থেকে আরও অসংখ্য মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা পাঠান।


এ বিষয়ে হামিদ রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “সামান্য টাকার অভাবে কোনো মরদেহ হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের উচিত এ ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আশা করি, আমাদের সামান্য সহায়তাই এই পরিবারকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারবে।”


এরই মধ্যে হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তাঁর বাবার মরদেহ বাড়িতে আনার ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। তিনি সমাজের সব মানবিক ও সহৃদয় মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হাসিব আল আমিন/এএমকে

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন